চতুর্থ খণ্ড

চতুর্থ খণ্ড

লছমী।
অনুরাধা! তোমার কবিকে দিয়ো আমার এই কণ্ঠহার।
অনুরাধা।
বেশ! তা হলে আজ আমি আসি, রানি!
লছমী।
রানি নয়, রানি নয়, অনুরাধা, লছমী। তুমি আমায় লছমী বলে ডেকো। রানির কারাগারে আমার ডাক-নামের হয়েছিল মৃত্যু, তোমার বরে সে নাম আবার বেঁচে উঠুক।
অনুরাধা।
লছমী! লছমী! তুমি সত্যই লছমী। রূপে লছমী, গুণে লছমী, গোলোকের অধীশ্বরী লক্ষ্মী।
লছমী।
আর তুমি? তুমি বুঝি ব্রজের দূতী?
অনুরাধা।
হ্যাঁগো তোমার দূতিয়ালিই করব, এই চাকরিই আমি নিলাম, সখী! তোমার কণ্ঠহার যথাস্থানে দেব তুমি নিশ্চিন্ত থেকো।

  

[ অনুরাধার গীত ]

ধন্য ধন্য ধন্য রমণী জনম তোর।

  সব জন কানু কানু করে ঝুরে

  সে কানু তোর ভাবে বিভোর।

  

[উদ্যান-অন্তরালে বিদ্যাপতি ও শিবসিংহ]

রাজা।
বিদ্যাপতি! বিদ্যাপতি! দেখেছ? ওদের দু-জনের মুখে গোধূলির আলো পড়ে ঠিক বিয়ের কনের মতো সুন্দর দেখাচ্ছে! বিদ্যাপতি! বিদ্যাপতি! আরে? তুমি যে নির্বাক নিস্পন্দ হয়ে গেলে! বিদ্যাপতি!

  

[বিদ্যাপতির গীত]

অপরূপ পেখলুঁ বামা।

  কনকলতা অবলম্বনে উঠল

হরিণীহীন হিমধামা॥

  (একী অপরূপ রূপ-ফাঁদ!)

(স্বর্ণলতিকা ধরি উঠিয়াছে যেন ওই কলঙ্কহীন এক চাঁদ)

  নলিন নয়ান দুটি      অঞ্জনে রঞ্জিত

    এ কী ভুরু ভঙ্গি-বিলাস

  চকিত চকোর জোড়    বিধি যেন বাঁধিল

    দিয়া কালো কাজরপাশ!

  গুরু গিরিবর          পয়োধর পরশিছে

    গ্রীবার গজমোতি হারা,

  কাম-কম্বু ভরি        কনক-কুম্ভ পরি

    ঢালে যেন সুরধুনী-ধারা।